• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

বরিশালে এনজিও ‘আভাস’র দুর্নীতি ফাঁস (ভিডিও)

অন্যায়ের প্রতিবাদ / ১৮৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশকাল ► মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১

সমাজসেবার তকমা লাগিয়ে ঝড়ে পড়া শিশু শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা না দিয়ে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনজিও Association of Voluntary Actions for the Society (AVAS) এর বিরুদ্ধে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে এনজিও আভাসের বিরুদ্ধে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা যায়, বাংলাদেশে ঝড়ে পড়া শিশুদেরকে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে সারাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ব ব্যাংক এর অর্থায়নে ‘রিচিং আউট–অব–স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ–২’ নামক একটি প্রকল্প চালু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে বরিশাল সিটি করর্পোরেশন এলাকায় ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য চালু করা হয় শিক্ষা কার্যক্রম। যা পরিচালনা করেন বরিশালস্থ বেসরকারী এনজিও আভাস।

নগরীর রসুলপুর, পলাশপুর, আমনতগঞ্জ ও কাউনিয়াসহ বেশকিছু এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী অন্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই অধ্যায়ন করছে এমন শিক্ষার্থী আনন্দ স্কুলে ভর্তি করার বিধান নেই। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র।

এনজিও আভাস’র নির্বাহী পরিচালক কাজল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম সুপার ভাইজার বিল্পব হাসানের যোগসাজে নগরীর বিভিন্ন সরকারী–বেসরকারী স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ওই স্কুলে অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা তৈরী করে বিশ্ব ব্যাংক ও সরকারের দেয়া বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন ।

অনুসন্ধান বলছে, তালিকাতে যে সকল শিক্ষার্থীদের নাম আছে তার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদেরই বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই। শিক্ষার্থীদের টাকা সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত একটি খাতায় স্বাক্ষর রেখে বৃত্তির টাকা স্ব স্ব শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না যথাযথভাবে। কিছু শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির টাকা দিলেও সিংহভাগ টাকা আভাসের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেয়া হয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনী।

অভিবাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের বৃত্তিসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা দেয়ার কথা বলে আনন্দ স্কুলে ভর্তি করায় আভাসের নিযুক্ত শিক্ষক ও অফিসাররা। আনন্দ স্কুলে ভর্তি করা হলেও সন্তানদের দেয়া হয়নি সঠিক ভাবে বৃত্তির টাকাসহ অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর রসুলপুর, আমানতগঞ্জ, কাউনিয়াসহ নগরীর বেশ কিছু কলোনি ও বস্তি এলাকায় ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য রিচিং আউট–অব–স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ–২ প্রকল্প (আনন্দ স্কুল) চালু করা হয়। প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য দেয়া হয় বরিশালস্থ বেসরকারী এনজিও আভাসকে। বরিশালে প্রকল্পটি চালু হওয়ার প্রথম থেকে নানা অনিয়ম–দুর্নীতি চললেও প্রভাবশালীদের ভয়ে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা মুখ খোলেননি।

তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে নামলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ জানান এ অনিয়মের বিরুদ্ধে। যার ভিডিও চিত্র কর্তৃপক্ষে কাছে সংরক্ষিত। ‘অন্য স্কুলে পড়াশোনা করালে সমস্যা নেই। বৃত্তির টাকা ও উপরের অফিসাররা যখন পরির্দশনে আসবে, তখন উপস্থিত থাকলেই চলবে।’ – এমন প্রলোভন দেখিয়ে আনন্দ স্কুলে ভর্তি করানো হয় বরিশাল নগরীর আমনগঞ্জস্থ মাহমুদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে।

শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আভাসের অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এভাবে অভিবাবকদের প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্কুলে ভর্তি করান। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ গরিব–অসহায়। তাই তারা প্রলোভনে পরে তাদের ছেলে মেয়েদের আনন্দ স্কুলে ভর্তি করান’ কিন্তু ছেলে–মেয়েদের টাকা মেরে খেয়ে আভাস তাদের সাথে বেইমানী করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর প্রোগ্রাম সুপার ভাইজার বিল্পব হাসান সময়ের বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাসে ৮০% উপস্থিত থাকা বাদ্ধতামূলক। অন্যথ্যায় তাদের বৃত্তি প্রদান করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া বৃত্তির টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।’

রিচিং আউট–অব–স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ–২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো: মাহবুব হাসান শাহীন জানান, ‘একই শিক্ষার্থী ২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

’ দ্বৈত ভর্তির এমন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বেআইনী দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পর নির্ধারিত বৃত্তির টাকাসহ অন্যান্য সকল সুযোগ শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই পাওয়ার যোগ্য।’ বেসরকারী এনজিও আভাসের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমের চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

AVAS নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল সময়ের বার্তাকে জানান, ‘রিচিং আউট–অব–স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ–২ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারকে শুধু সহযোগিতা করেছেন তার প্রতিষ্ঠান আভাস। অর্থ লেনদেন সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্ব স্ব শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের নির্ধারিত খাতায় স্বাক্ষর প্রদান করে বৃত্তির টাকা উত্তোলন করেছেন। অনমিয়–দুর্নীতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।’ তিনি আরো জানান, প্রকল্পটি বাস্তাবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের একজন সুপারভাইজার ছিলেন তদারকি করার জন্য।


এই বিভাগের আরো সংবাদ

আমাদের ফেসবুক পেজ

Facebook Pagelike Widget