• রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
আমীরগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ব্যবসায়ী পান্না নারী উত্ত্যক্তকারী সোহাগের মুক্তির দাবীতে থানা ঘেরাও! নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি প্রার্থী হান্নানের নাটক বাটার গলিতে বৃদ্ধার সম্পদ দখলের পায়তারা সন্ত্রাসী নুরী বাহিনীর ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ’র চেয়ারম্যান ইমরানের দুর্নীতি ফাঁস বিএম কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক বাবুকে মহানগর ছাত্রদলের সংবর্ধনা সময়ের লড়াকু সাংবাদিক এম. লোকমান হোসাঈন এর জন্মদিন পালিত ‘জিম্মি’ সাংবাদিকদের পাশে থাকবে অনলাইন প্রেস ইউনিটি কারাগারে আসামীকে মারধর, স্বীকার করেলেন জেল সুপার বরিশাল কারাগারে ফাঁসির আসামীকে জেলারের অমানবিক নির্যাতন

জেলা প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তার নামে তহশীলদার পান্নার ৭ কোটি টাকার চাঁদাবাজী

অন্যায়ের প্রতিবাদ / ১৬৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশকাল ► শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০
তহশীলদার পান্নার ৭ কোটি টাকার চাঁদাবাজী

এম. লোকমান হোসাঈন: তসিলদার পান্নার কারনে ভিটা ছাড়া রিজিয়ার মত পথে বসতে যাচ্ছে প্রায় কয়েক হাজার পরিবার। বরিশাল সদর চরকাউয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পান্না ২০১৭ সালের শেষের দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে ৫৭ নং কর্ণকাঠী মৌজার এস.এ ৬১০ নং খতিয়ানের হাল ১৫ নং দাগের ০.০৩২৫ এবং সৃজিত ৪৫২৫ নং খতিয়ানের হাল ১৫ নং দাগের ০.০২৬৬ একর একুনে ০.০৫৯১ একর জমি অবৈধ উপায়ে কর্তন পূর্বক রেকর্ড পূর্ববহালের ব্যবস্থা করার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর কতিয়পয় মাহবুবুল হাসানকে দিয়ে একটি আবেদন করায়।

ওই সময়ের সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুল হুসাইন খাঁন, স্থানীয় ভূমি তসিলদারকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। সে সময়ের চরকাউয়া ইউনিয়ন ভূমি তসিলদার মিজানুর রহমান পান্না, মাহবুবুল হাসানের সঙ্গে হাতাহাত করে সহকারি কমিশনার ভূমি অফিসার নিকট হাসানের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাহার কাগজপত্রের সাথে কোন মিল খোজে পাওয়া যায়নি।

►► আরো দেখুন: এসআই নিয়োগ প্রস্তুতি : সাব-ইন্সপেক্টর হতে চাইলে যা করবেন

যদিও সময়ের বার্তায় অনুসন্ধান মূলক সংবাদ প্রকাশের পর উক্ত প্রতিবেদন খারিজ করে দেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুসাইন খাঁন। পান্নার দুর্নীতির নানান অভিযোগ নিয়ে সময়ের বার্তায় সংবাদ প্রকাশ হলে চরকাউয়া তসিল অফিস থেকে বদলি করে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন তসিল অফিসের বদলি করা হয়।

তবুও থেমে থাকেনি পান্নার অনিয়ম দুর্নীতি। নামজারীর নামে অতিরিক্ত অর্থ ও চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভুমিহীনদের সরকারী জমি দেয়া কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মিজানুর রহমান পান্না। সর্বশেষ বরিশাল সদর উপজেলাধীন চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের চন্দ্রমোহন মৌজার ‘চর পাওয়ার’ চরের জমি অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন একটি ভূমিদস্যূ বাহিনী।

যার বিনিময় প্রতিদিন ১ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে এই ইউনিয়ন তসিলদার মিজানুর রহমান পান্নাকে। এমন চঞ্চল্যকর তথ্য আসে সময়ের বার্তার কাছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় বরিশাল সদর উপজেলারধীন চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন ঘেশা তেতুলিয়া নদী তীর চন্দ্রমোহন মৌজার ‘চর পাওয়ার’ গ্রামের প্রায় ১৫’শ একর জমি থেকে দীর্ঘদিন যাবত মাটি কেটে বরিশালের বিভিন্ন ইট ভাটা ও রাজধানীর নারায়গঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে আসছে একটি চক্র।

যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড টুমচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান ও সুলতান বাহিনী। সরকারী জমি থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার জন্য প্রতিদিন ইউনিয়ন তসিলদার পান্নাকে দিতে হচ্ছে ১ লাখ টাকা।

গত ২ বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন পান্না। আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ১লাখ টাকার বিনিময় বরিশাল জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) ম্যানেজ করছেন তসিলদার মিজানুর রহমান পান্না। যার ফলে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে বিক্রি করছেন আব্দুর রহমান-সুলতান বাহিনী।

►► আরো দেখুন: এসআই নিয়োগ প্রস্তুতি : সাব-ইন্সপেক্টর হতে চাইলে যা করবেন

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তসিলদার মিজানুর রহমান পান্না, তাদের নাম ব্যবহার করে,ভূমি দস্যূদের সাথে হাত মিলিয়ে অবৈধ ভাবে সুবিধা নিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও কথা বলেন কর্মকর্তারা। স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়া নদীর তীরঘেঁষা চর পাওয়ার চরের প্রায় ১৫ শ একর জমি যে ভাবে ভুমি দস্যূরা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন, এভাবে কেটে নিলে চন্দ্রমোহনের পুরো ইউনিয়ন নদীতে বিলিন হয়ে পড়লে ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ভূমিহীন হয়ে যাবে।

অভিযুক্ত তসিলদার মিজানুর রহমান পান্না বলেন, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সর্ম্পূণ মিথ্যা। বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুনিবুর রহমান সময়ের বার্তাকে বলেন, চর পাওয়ার চরের প্রায় ১৫শ একর জমি থেকে স্থানীয় ভূমিদস্যূরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন। যা সম্পূর্ন অবৈধ।

তসিলদার মিজানুর রহমান পান্নার বিষয় জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ইতিপূর্বে পান্না সহ স্থানীয় ভূমি সদস্যূদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ পেয়েছেন। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও কথা বলেন এই কর্মকর্তা।


এই বিভাগের আরো সংবাদ

আমাদের ফেসবুক পেজ

Facebook Pagelike Widget