• বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
আমীরগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ব্যবসায়ী পান্না নারী উত্ত্যক্তকারী সোহাগের মুক্তির দাবীতে থানা ঘেরাও! নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি প্রার্থী হান্নানের নাটক বাটার গলিতে বৃদ্ধার সম্পদ দখলের পায়তারা সন্ত্রাসী নুরী বাহিনীর ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ’র চেয়ারম্যান ইমরানের দুর্নীতি ফাঁস বিএম কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক বাবুকে মহানগর ছাত্রদলের সংবর্ধনা সময়ের লড়াকু সাংবাদিক এম. লোকমান হোসাঈন এর জন্মদিন পালিত ‘জিম্মি’ সাংবাদিকদের পাশে থাকবে অনলাইন প্রেস ইউনিটি কারাগারে আসামীকে মারধর, স্বীকার করেলেন জেল সুপার বরিশাল কারাগারে ফাঁসির আসামীকে জেলারের অমানবিক নির্যাতন

কারাগারে আসামীকে মারধর, স্বীকার করেলেন জেল সুপার

অন্যায়ের প্রতিবাদ / ১২২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশকাল ► সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
কারাগারে আসামী নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টার: কারাগারে আসামী নির্যাতন! স্বীকার করলেন জেল সুপার। তবে সেটা অন্যভাবে স্বীকার করে নিলেন তিনি। তার দাবী আসামীকে জেল কর্তৃপক্ষ নির্যাতন করেননি। নিজেরাই মারামারির মাধ্যমে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। এমনটাই দাবী বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের।

অথচ তিনিই গত শনিবার সময়ের বার্তাকে তথ্য দিয়েছেন ফাঁসির আসামী হাসানকে নির্যাতন কিংবা কেউ মারধর করছেন কিনা সে বিষয় তিনি অবগত নন। এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত! সংবাদ প্রকাশের পরে তিনিই আবার লিখিত আকারে সময়ের বার্তাকে উক্ত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানান।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক স্বাক্ষরিত পত্রে তিনি জানান, গত মাসের ২৩ তারিখ মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মো: শেখ হাসান ফাঁসির সেলে অপর কয়েদী মো: মিরাজ খলিফাকে তুচ্ছ অজুহাতে শারীরিক আক্রমণ করেন বিধায় উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।


►► আরো দেখুন: ফেসবুক থেকে যেভাবে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন


এসময় কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ তাদের নিবৃত্ত করে উভয়কে কারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। পরদিন এই ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে প্রধান কারারক্ষী ও অন্যান্য কারারক্ষীরা উভয়কে ডাকতে গেলে আসামী শেখ হাসান তাদের উপর চড়াও হয় এবং ধস্তাধস্তি শুরু করেন।

অত:পর কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ হাসানকে নিবৃত্ত করে কেস টেবিলে নিয়ে আসেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে কারাবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন জাগে যেখানে সিনিয়র জেল সুপার গত শনিবার সময়ের বার্তাকে জানালেন তিনি না এ ব্যাপারে কিছুই জানেন।

অথচ সংবাদ প্রকাশের পরে তিনিই লিখিতভাবে আবার জানালেন, সেলের মধ্যে ২ আসামী হাসান ও মিরাজ মারামারি করছেন। এত বড় একটি বিষয় কেন গত শনিবার সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে গেলেন এই কর্মকর্তা? উক্ত পত্রে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘আসামীদের খাবার ও ক্যান্টিনের দ্রব্যসামগ্রী ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কারা কর্তৃপক্ষ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।’ কিন্তু সময়ের বার্তার কাছে প্রাপ্ত অডিও এবং ভিডিওসহ একাধিক তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, জেলারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কমিশন দিয়ে সকল পণ্য অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ। যার যথেষ্ট প্রমাণ সময়ের বার্তার কার্যালয় সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শাহ আলমের নির্দেশে ফাঁিসর আসামীকে রাতভর পাশবিক নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশের পর বেড়িয়ে আসে আরো সব চাঞ্চ্যলকর তথ্য। জানা যায়, ভিতর ও বাহিরের দুই ক্যান্টিন থেকে জেলার শাহ আলমের প্রতিমাসে আয় ২ লাখ টাকার বেশী।


►► আরো দেখুন: ফেসবুক থেকে যেভাবে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন


কারাগারের বাহিরের ক্যান্টিনে কমলার মূল্য নেয়া হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। যা খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১’শ টাকা। ১৫০ টাকার আপেল ২৬০ থেকে ৩’শ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু আপেল বা কমলাই নয়, বরং প্রতিটি পণ্যের দাম নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। রহস্যজনক কারণে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এ বিষয় আইনগত কোন ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থানরত হাজতী ও বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের জন্য বাহিরের ক্যান্টিন থেকে খাদ্য বা ব্যবহৃত কোন দ্রব্য দিতে হলে স্বজনদের ২০ টাকার পণ্য ৮০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৬০ মিলি থেকে ৮০ মিলি সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

বেনসন সিগারেট প্রতিটি প্যাকেট ৩’শ টাকা থেকে ৩৬০ টাকা, ১৯০ টাকার গোল্ডলিফ সিগারেট প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, ৮২ টাকার শেক সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, ১০ টাকার টুথব্রাশ ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, চিড়া কেজি প্রতি ৯০ থেকে ১২০ টাকা, ২৫ টাকার টয়লেট টিস্যু ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ৪৫ টাকার মাঝারী লাক্স সাবান ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা করে রাখা হচ্ছে।

এভাবেই প্রতিটি খাদ্য ও ব্যবহৃত পণ্যের উপর আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। যার কোন আদায় রশিদ দেয়া হচ্ছে না। একইভাবে কারাগারের ভিতরের ক্যান্টিনেও বাহিরের চেয়ে অনেক গুণ বেশী মূল্যে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। সময়ের বার্তার কাছে প্রাপ্ত ভিডিও এবং প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, ভিতরের ক্যান্টিনের সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী আব্দুর রহমান গত অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে বাহিরের ক্যান্টিনের দায়িত্ব নেন।

যার বিনিময় জেলার শাহ আলমকে ৩ মাসের জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা দেন। এদিকে ভিতরের ক্যান্টিনের দায়িত্বে রয়েছেন মাহাবুব। তিনিও ৩ মাসের জন্য জেলারকে ১ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ক্যান্টিনের উভয় ম্যানেজারকে বিক্রিত পণ্যের উপর প্রতিমাসে জেলার শাহ আলমকে দিতে হচ্ছে ৪০% কমিশন। অনুসন্ধান বলছে, ভিতরের ক্যান্টিনে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৪৬ হাজার থেকে ৫৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।


►► আরো দেখুন: ফেসবুক থেকে যেভাবে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন


বাহিরের ক্যান্টিনে বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। যার ৪০% কমিশন দিতে হচ্ছে জেলার শাহ আলমকে। এ বিষয় কেউ প্রতিবাদ করলেই তার অবস্থা হয় সদ্য নির্যাতনের স্বীকার ফাঁসির আসামী হাসানের মত। কাউকে আবার হাসানের চেয়েও বেশী নির্যাতন সহ্য করতে হয়।

জেলার শাহ আলমের ভয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন আসামীরা। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বরিশাল বিভাগের গর্ভনর মাহামুদুল হক খান মামুন সময়ের বার্তাকে বলেন, ‘কারাগারে আসামীদের মারধর যেমন মানবাধিকার লংঘন, ঠিক তেমনি কারাগারের ভিতর ও বাহিরের ক্যান্টিনে খোলাবাজারের চেয়ে চড়া দামে পণ্য বিক্রি ঠিক হয়নি। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ, হাজতবাসী বেশীর ভাগ আসামীরাই গরীব। তাদের জন্য চড়াদামে পণ্য ক্রয় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরে।’

গর্ভনর মাহামুদুল হক খান মামুন আরো বলেন, ‘এ বিষয় প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা দরকার।’ এদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি (প্রিজন) মো. টিপু সুলতান ও কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, পণ্যের অতিরিক্ত মূল্যের বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ

আমাদের ফেসবুক পেজ

Facebook Pagelike Widget