• শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

উভয় সংকটে পড়েছে দেশের অর্থনীতি !

অন্যায়ের প্রতিবাদ / ৪২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশকাল ► সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করলে স্থানীয়ভাবে সব ধরনের সেবা ও পণ্যের মূল্য বাড়বে।

এছাড়া প্রতিবেশী দেশে দাম বেশি হওয়ায় পাচারের শঙ্কা আছে। এটা যাতে না হয় সেজন্য সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষীবাহিনীকে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে প্রথম ধাক্কায় পণ্যের পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাবে। দ্বিতীয় দফায় বাড়বে গণপরিবহণ ব্যয়। এর পাশাপাশি বাড়বে সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন ব্যয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগ করে উৎপাদনে যেতেও খরচ বাড়বে।

এসব কারণে অর্থনীতিবিদরা জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি দিয়ে বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, দাম বাড়ালে বাজারে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তার মোকাবিলা করা কঠিন হবে। করোনার পর হঠাৎ করে চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিছুদিন পর চাহিদা আবার কমে এলে তখন এর দামও কমে যাবে।

জানা গেছে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে মূলত বিপিসি লাভের ধারায় ফিরে। এর আগে জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা লোকসানে ছিল সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে তারা লাভে চলে আসে।

ওই বছরে তারা ৪১২৬ কোটি টাকা মুনাফা করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯০৪০কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮৬৫৩ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৬৪৪ কোটি টাকা মুনাফা হয়।

এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭৬৮ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫০৬৭ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৮৪০ কোটি টাকা লাভ করে বিপিসি। নতুন আইন অনুযায়ী এসব মুনাফা সরকার তার নিজস্ব হিসাবে নিয়ে গেছে। এখন প্রতি মাসে গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ছিল ৬৬ ডলার ২৫ সেন্ট। করোনার প্রকোপ শুরু হলে ১৮ মার্চ তা কমে ২৪ ডলার ৮৮ সেন্টে দাঁড়ায়। ৩১ মার্চ আরও কমে ২২ ডলার ৭৪ সেন্টে দাঁড়ায়।

২৭ এপ্রিল তা আরও কমে ২২ ডলার ২০ সেন্টে নেমে আসে। এর পর থেকে এর দামে সামান্য ওঠানামা থাকলেও গড়ে বাড়তে থাকে। ১৫ ডিসেম্বর ৫০ ডলারে ওঠে। চলতি বছরের ১১ মার্চ ৬২ ডলার, ১৫ সেপ্টেম্বর তা আরও বেড়ে ৭৫ ডলার ৪৬ সেন্টে দাঁড়ায়। গত ৩০ অক্টোবর তা আরও বেড়ে ৮৯ দশমিক ৮ ডলারে ওঠে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশের আমদানির এককভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় এ খাতে। মোট আমদানি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানি তেলে।

করোনার কারণে এ খাতে গত দুই অর্থবছরে ব্যয় কম হয়েছে। মোট আমদানি ব্যয়ের ৮ থেকে ১০ শতাংশ। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪৫৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৪৩০ কোটি ডলার। গত দুই অর্থবছরেই জ্বালানি তেলের দাম ছিল তলানিতে। সর্বনিম্ন ২০ ডলার থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে। এখন তেলের দাম বাড়লে এ খাতে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে।

 


এই বিভাগের আরো সংবাদ

আমাদের ফেসবুক পেজ

Facebook Pagelike Widget